ব্রেকিং:
হাটবাজার, দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার সময় বাড়ানো হয়েছে। সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত আটটা পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যা এতদিন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ করোনার উপসর্গ নিয়ে কুড়িগ্রামে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু পানিবন্দি ৩০ লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তা অব্যাহত:ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টা আগেই রংপুর সিটিতে পশুর বর্জ্য অপসারণ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আরো ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৫৬ জন।
  • মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭

  • || ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জনগণ সব সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলে- প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে রত্নাই সীমান্তের নাগর নদীতে বাংলাদেশির লাশ ভিয়েনায় `বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট` উদ্বোধন দেশবাসী নিরাপদে ঈদ উদযাপন করেছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে ধর্ম যার যার উৎসব কিন্তু সবার- তথ্যমন্ত্রী
১১২

ঠাকুরগাঁওয়ে অতি বৃষ্টিপাতে ক্ষতির মুখে আম চাষীরা   

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২০  

ভরা মৌসুমে আমের ফলন ওঠার আগে অতিবর্ষণ আর জলাবদ্ধতা, যেন মরার উপড় খারার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এ কারনে ঠাকুরগাঁওয়ের আমচাষিরা এবার কাঙ্খিত দাম পাচ্ছে না। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বাগানের পরিচর্যা করতে পারেনি আম চাষিরা। প্রকৃতির বিরুপ আচরণে বিবর্ণ হয়ে গেছে বাগানের অধিকাংশ আম। সেই আম নিতে আগ্রহ নেই  ব্যবসায়ীদের। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এই জলাবদ্ধতা বলে জানায় বাগান মালিকরা। 


বাগান মালিকরা বলছেন, অবিরাম বৃষ্টিতে আম বাগানের পরিচর্যা করতে না পারায় আমের শরীরে  কালো দাগ পড়েছে।  এ কারণে  আকৃষ্ট হচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। গেল বছর এই সময়ে যে বাগান ৪ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবার সেই বাগান বেচতে হচ্ছে ২ লাখ টাকায়। লকডাউন আর করোনা ভাইরাসের অজুহাতে ঢাকায় আম পাঠাতেও ট্রাক প্রতি ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ আম ব্যবসায়ীদের।  


চলতি মৌসুমে  জেলার পাঁচ  উপজেলায় ২ হাজার ৮শ ৪০ হেক্টর জমিতে সূর্যপুরী, মিশ্রিভোগ, হাড়িভাঙ্গা, বান্দিগৌরি, আম্রপলি, মিশ্র ভোগসহ  বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়েছে। এ থেকে ৪৩ হাজার ৭৭ মেট্রিক টন আমের ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।


জেলার পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী ও সদর উপজেলার ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার আমের আড়ত ঘুরে দেখা যায়,  প্রতিমন আম গত বারের মতো দরেই বিক্রি হচ্ছে।


ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার আমের আড়ত দেখা যায়, বর্তমানে সুর্যাপুরী আম মনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে পাইকারী ১৮০০ টাকা, খুচরা ২০০০ টাকা, হাড়িভাঙ্গা আম প্রতিমন পাইকারী ২৪শ টাকা, খুচরা ২৮শ টাকা, আম্রপালি (রুপালি) আম পাইকারী ১৬শ টাকা, খুচরা ২ হাজার টাকা, মিশ্রিভোগ আম পাইকারী ৩ হাজার টাকা খুচরা ৩২শ টাকা।


তবে এই ব্যবসায়ীরা বাগান কৃষকদের কাছে আরো কম দরে কিনছেন আম। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক আলী হোসেন বলেন, বাগানে সূর্যাপুরী আম মন প্রতি ১৪শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি হচ্ছে প্রতিমন ১৬শ টাকা, আম্রপালি ১২শ টাকা,  মিশ্রি ভোগ ২হাজার টাকা পর্যন্ত দরে।


ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার আমের আড়তের আম ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, গতবারের মতো দরেই এবারও আম বিক্রি হচ্ছে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে ক্রেতার সংখ্যা কম। বৃষ্টিপাতের কারনে ঢাকার ব্যবসায়ী কম আসছে। তবে আকাশ ভাল থাকলে গতবারের মত এবারও লাভবান হওয়া যাবে বলে জানায় এই আম ব্যবসায়ী। এবার হাড়িভাঙ্গড়া ও আম্রপালি আমের চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, গত বছর সুর্যাপুরীর চাহিদা বেশি থাকলেও এবার তেমন নেই। ক্রেতারা হাড়িভাঙ্গা ও আম্রপালি আমের দিকেই নজর বেশি বলে জানান তিনি।


জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতৈড় গ্রামের আম চাষি তৈয়ব রহমান বলেন, গেল আম্পান ঝড়ে অর্ধেক আম ঝরে গেছে। এর পরেও কিছু আম কিটিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমের দর পতনে উৎপাদন খরচ তো উঠবেই না লোকসান হবে দ্বিগুন। একই উপজেলার বনবাড়ি গ্রামে চাষি মনোয়ার হোসেন বলেন, ৫০ বিঘা আম গাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। আম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পানিতে ডুবে ভোলায় করে আম তুলতে হচ্ছে।


বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কুশলডাঙ্গী গ্রামের আম চাষি অসিম হায়াত পাঞ্জাব বলেন, অতি বর্ষনে ঘর থেকে বের হওয়া যায়নি। তাই এবার আম বাগানের পরিচর্যা করা যায়নি। সকালে আমে স্প্রে করলে দুপুরে বৃষ্টিপাতে ধুয়ে গেছে । ফলে আমে কালো দাগ পরেছে।


ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গতবছর ঢাকায় আম পাঠাতে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এবার তা বেড়ে ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগছে।


ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, এবার আমের ভাল ফলন হয়েছে। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি ও পরিবহন ব্যবস্থা ভাল হলে চাষিরা আমের দাম ভাল পাবে বলে আশা করা যায়। তবে অতি বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতায় কিছু আমের ক্ষেতে পানি জমেছে। বৃষ্টিপাত না হলে দ্রুত পানি সরে যাবে বলে জানান তিনি।

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –
ঠাকুরগাঁও বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর