• শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৭

  • || ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
সরকারের হস্তক্ষেপে কমতে শুরু করেছে আলুর দাম লালমনিরহাটে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৭ আসামি গ্রেফতার দুর্গাপূজা উপলক্ষে বুড়িমারী স্থলবন্দর বন্ধ থাকবে ৬ দিন বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা চরম বিরক্ত ফখরুল-রিজভীদের ওপর কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরে চার দিনের ছুটি

পেঁয়াজ আমদানিতে সরকারের পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব 

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধের পর দেশে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সামাল দিতে বিকল্প দেশ থেকে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতা করছে সরকার। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত তিন দিনে প্রায় ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের আবেদনের অনুমতি দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং। এ শাখায় প্রতিদিনই পেঁয়াজ আমদানির অসংখ্য আবেদন পড়ছে বলে জানা গেছে। ভারত রপ্তানি বন্ধের পর এক দিনেই দেশে  পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি পায়। তবে সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এ দাম আর বাড়েনি, বরং কমেছে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অনুতপ্ত। ভারত রপ্তানি বন্ধের  আগেই পরিস্থিতি আন্দাজ করে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। ওই পেঁয়াজ আগামী সপ্তাহেই দেশে আসতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এদিকে নতুন এলসি খোলা ৬০ হাজার টন পেঁয়াজের চালানও চলতি মাসের শেষদিকে আসা শুরু হবে বলে জানা গেছে। বিকল্প দেশের এ পেঁয়াজ এলে দাম আরও কমবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

গতকাল খুচরা বাজারে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। গত বুধবার যথাক্রমে দেশি ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগ বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন সমকালকে জানান, পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। লোকসান এড়াতে দাম কমিয়ে অনেকে পেঁয়াজ দ্রুত বিক্রি করছেন। কারণ পাইকারি বাজারেও দাম কমছে।

জানা যায়, বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আনার সব উদ্যোগ নিয়েছেন আমদানিকারকরা। মিয়ানমার থেকে ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ট্রেডিং। পাকিস্তান থেকে আরও ৫০০ টন পেঁয়াজ আনবে এ প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামের বকশিরহাটের ট্রেডলিংক মিসর থেকে এক হাজার টন, আবুল বাশার অ্যান্ড সন্স ৫০০ টন, আমদানিকারক জিয়াউর রহমান পাকিস্তান থেকে ৫০০ টনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে।

দেশে উদ্ভিদ আমদানি, রপ্তানি ও পরীক্ষাগারের দায়িত্বে থাকা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুল হক বলেন, চলতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মিসর, চীন, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ সাতটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে। ভারত রপ্তানি বন্ধের পরদিনই সবচেয়ে বেশি আবেদন করেন ব্যবসায়ীরা। গত মঙ্গলবার এক দিনে প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এর পর থেকে অসংখ্য আবেদন আসছে। এসব আবেদনের ভিত্তিতে নিয়মিত অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

ফজলুল হক আরও জানান, ভারত রপ্তানি বন্ধের আগেই দেশটি থেকে গত দুই মাসে ১ লাখ ৭২ হাজার টন আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার আগেই বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির জন্য অনুমতি নিয়েছেন বেশ কয়েকজন আমদানিকারক। ওই পেঁয়াজ শিগগিরই হয়তো দেশে আসবে। তা ছাড়া দেশি পেঁয়াজের মজুদও পর্যাপ্ত। এমন কোনো পরিস্থিতি দেশে তৈরি হয়নি যে পেঁয়াজের সংকট হবে। এখন ঘাটতি নেই। অস্বাভাবিক দামে বিক্রির কোনো কারণও নেই।
ভারত থেকেই ৯০ শতাংশ পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে। কারণ পাশের দেশ, আমদানি ব্যয়ও কম। আর প্রথম বিকল্প দেশ হচ্ছে মিয়ানমার। গত বছর দেশে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির সময়ে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কিন্তু এবার করোনার কারণে টেকনাফ স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সিঙ্গাপুর হয়ে পেঁয়াজ আনতে হবে বলে জানান ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর দিয়ে পেঁয়াজ আনতে গুনতে হবে বাড়তি খরচ। এ ছাড়া অন্য দেশ থেকে আমদানিতেও খরচ বেশি পড়বে। তবে আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলে মনে করেন তারা।

সরকারের পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব : গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিভিন্ন দেশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই পর্যাপ্ত পেঁয়াজ দেশে আসবে। আগামী এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ দেশব্যাপী স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে পেঁয়াজের বাজারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গতকালও অধিদপ্তরের অভিযানে রাজধানীর পাইকারি বাজারের ৮টি আড়তে ৭২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমদানি করা পেঁয়াজ বন্দর থেকে দ্রুত ছাড় ও আগামী মার্চ পর্যন্ত শুল্ক্ক কমাতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানিতে দ্রুত সনদ ইস্যু করতে উদ্ভিদ সংগনিরোধ শাখাকে নির্দেশনা দিয়েছে। দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুর, পাবনা, রাজবাড়ী, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ সব জেলা প্রশাসককে সরবরাহ ঠিক রাখতে মনিটরিং জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ৩ জন যুগ্ম সচিবকে এসব জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিটি বন্দরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বাজার মনিটরিং জোরদার করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছেন। পেঁয়াজ আমদানিকারকদের এলসি খোলাসহ সার্বিক সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

দেশে পেঁয়াজের মূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে টিসিবির মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এই পেঁয়াজ বিক্রি আগামী মার্চ পর্যন্ত চলবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে এবার ব্যাপক পেঁয়াজ আমদানি ও বিক্রি করবে। অনলাইনেও টিসিবির পেঁয়াজ পাওয়া যাবে। পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। 

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –