ব্রেকিং:
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজার নামাজ সম্পন্ন।
  • শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৪ ১৪২৭

  • || ০১ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
আল্লামা শফীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বদলে যাচ্ছে উত্তর দিগন্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা বাড়াতে স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১৫০ ট্রাক পেঁয়াজ আসছে আজ নেতৃত্ব নিয়ে এখন টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি
৯৩

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের 

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২০  

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় ধরনের পণ্য রপ্তানিতে দেশটির কাছে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রচলিত জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করে বা অন্য যে কোনো চুক্তিবলে উল্লিখিত পণ্যগুলোয় যেন অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা দেওয়া হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব মার্কিন কোম্পানি বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের কোম্পানি সরিয়ে নিচ্ছে তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্যও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সূত্র জানান, গত মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্ট-টিকফার বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধার প্রস্তাবে যে ছয় ধরনের পণ্যের তালিকা দিয়েছে বাংলাদেশ, সেগুলো হচ্ছে : তৈরি পোশাক, হেলথ প্রোডাক্ট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, সুগন্ধি চাল, তামাক ও প্রোডাকশন শেয়ারিং কটন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও শাখার মহাপরিচালক মো. হাফিজ উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছি, জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল না করেও বাংলাদেশের প্রস্তাবিত পণ্যগুলোয় অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা দেওয়া সম্ভব। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার যে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (টিএফএ) রয়েছে, তার ৯.২ ধারা অনুযায়ী তারা প্রস্তাবিত পণ্যে বাজার সুবিধা দিতে পারে।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে পণ্যের তালিকা দিয়েছে, এর মধ্যে তামাক আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জিএসপি সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। রানা প্লাজা ধসের পর সে সুবিধা স্থগিত করায় এখন পণ্য রপ্তানিতে কোনো শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ফলে দেশটি যাতে পুনরায় জিএসপি সুবিধা বহাল করে সে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

এ বিষয়ে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশের স্থগিতকৃত জিএসপি সুবিধা পুনরায় চালুর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগে ঘোষিত বিভিন্ন দেশের জন্য মার্কিন জিএসপি স্কিমের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে, পরবর্তী স্কিম চালু হলে বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা প্রদানের বিষয় বিবেচনা করার সুযোগ আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, জিএসপির বিষয়টি নিয়ে এবার বাংলাদেশ পাশের একটি দেশকে তুলনায় টেনেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরও ওই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা পায়। অথচ ওই দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রম খাতের পরিবেশ (কমপ্লায়েন্স) অনেক উন্নত হওয়ার পরও গত ছয় বছর ধরে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় আরও যে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগ স্থানান্তর ও বাংলাদেশ থেকে চুক্তির ভিত্তিতে ভ্যাকসিন ও ওষুধ উৎপাদন।

সূত্র জানান, বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে কিছু দেশ থেকে অনেক মার্কিন কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ স্থানান্তর করছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রিলোকেটেড সেই মার্কিন বিনিয়োগ বাংলাদেশে সরিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, আমরা তাদের বলেছি, তারা চাইলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক বা ওষুধশিল্পে তাদের বিনিয়োগ আনতে পারে। বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগ স্থানান্তরের বিষয়ে সভায় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) একটি প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করেছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় বিল্ডিং কোড পরিবর্তন, ই-বর্জ্য নীতিমালা সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দেশটি বলেছে, জাতীয় বিল্ডিং কোডে যেন শ্রমিকের নিরাপত্তা ইস্যুটি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নীতিমালায় যেসব শর্ত রয়েছে সেগুলো কিছু সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশটি আলোচনায় বলেছে, বাংলাদেশের ই-ওয়েস্ট রেগুলেশন যেটি আছে, সেটি আন্তর্জাতিক মানের চেয়েও উচ্চমানের এবং শর্তবহুল। তারা এটি আন্তর্জাতিক মানে এনে কিছু শর্ত কমাতে বলেছে। যেমন আন্তর্জাতিক নীতিতে ই-পণ্যে নিকেল নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। ফলে এ শর্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্র অনেক ই-পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করতে পারে না।

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর