• সোমবার   ১৭ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
লকডাউন আরো ৭ দিন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন আজ কাউন চাষে ফিরছে গাইবান্ধার কৃষকদের হারানো দিন মানবিকতার দিক থেকে শেখ হাসিনা সরকার উদাহরণ দেশেই করোনার টিকা তৈরি করার চেষ্টা চলছে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন, রবিবার থেকে এনওসি পাবে বাংলাদেশিরা

মেয়েকে নিয়ে বাড়ি পৌছলেন ঠাকুরগাঁও থেকে আসা সেই রিকশাচালক বাবা   

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২১  

৯ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শিশু জান্নাতকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ঠাকুরগাঁও থেকে আসা রিকশাচালক বাবা তারেক ইসলাম। বাড়ি ফেরার সময় সন্তানের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ানো সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে পরিবারটি।

গতকাল রোববার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা। এ সময় রিকশাটিও পিকআপভ্যানে নেওয়া হয়। এর আগে বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুল হক ওই শিশুটির সুস্থতার ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় শিশু জান্নাতের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ৭ দিন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল শিশুটিকে। পেটের মধ্যে নাড়ি পেঁচিয়ে যাওয়ায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ ৯ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার আগে বাবা তারেক ইসলাম বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। শূন্য হাতে বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। আমার বাচ্চার অপারেশন করাতে এক টাকা খরচ করতে হয়নি। এখন বাচ্চা সুস্থ হয়েছে। বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। ঢাকা পোস্ট আমার বাচ্চাকে নিয়ে সংবাদ প্রচার করার পর দেশ-বিদেশ থেকে যত টাকা অনুদান পেয়েছি, বাচ্চার ভবিষ্যতের জন্য সেই টাকা দিয়ে জমিজমা কিনেছি।

সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও থেকে হাসপাতালে আসার খবর অনেক সাংবাদিক সংবাদ করেছে। আমার কষ্টকে মিডিয়ায় প্রচার করায় স্বপ্ন নামে একটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠান আমার অসুস্থ শিশুর চিকিৎসাসেবার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করেছে। এ ছাড়া রংপুুুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উই ফর দেমসহ বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক অনুদান পেয়েছি। অথচ যখন ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুুুরের উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলাম, তখন আমার কাছে একশ টাকাও ছিল না।

জান্নাতের মা সুলতানা বেগম বলেন, আলহামদুল্লিাহ এখন খুব ভালো লাগছে। আমার মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো অপারেশন করতে পারতাম না। সবাই এগিয়ে এসেছে বলেই সম্ভব হয়েছে। আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। সবাই দোয়া করবেন, যাতে ওর ভবিষ্যত সুন্দর হয়।

উল্লেখ্য, ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক তারেক ইসলাম ও স্ত্রী সুলতানা বেগমের অভাব-অনটনের সংসার। রোজগারের একমাত্র সম্বল একটি ব্যাচারিচালিত রিকশা। তারেক ইসলাম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর গ্রামের রামবাবুর গোডাউন এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের বড় ছেলে। তার ৯ ও ৩ বছর বয়সী আরও দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।  

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –