• রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১০ ১৪২৭

  • || ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: আনিসুল হক ২০২১ সালের মধ্যে আরও ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে: পলক তিস্তায় নতুন রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বিরামপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক বিতরণ তৃণমূলে বিএনপির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে

শিশুর প্রতি নবিজি (স)-এর ভালোবাসা 

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২০  

শিশুরা আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্য, আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বড় নেয়ামত। এদের ঘিরে রচিত হয় আমাদের হাজারো রঙিন স্বপ্ন। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যত্-কর্ণধার। আজ যারা হাঁটি হাঁটি পা-পা করে চলছে তারাই একদিন একটি জাতির নেতৃত্ব দেবে। এ জন্যই রসুলুল্লাহ (স) শিশুদের ভালোবাসতেন, আদর করতেন এবং তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন।
তাদের তিনি বেহেশতের ফুল বলে উল্লেখ করেছেন। নবিজি (স) শিশুদের পিতা-মাতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—‘তোমরা সন্তানদের প্রতি যত্নবান হও এবং সুশিক্ষা দিয়ে তাদের সচ্চরিত্রবান করে গড়ে তোলো।’ (ইবনে মাজাহ্)। মহানবি মুহাম্মদ (স) শিশুদের এতই ভালোবাসতেন যে, তাদের দেখে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরতেন এবং চুমু খেতেন। কখনো কখনো নিজে ঘোড়া সেজে হাসান-হুসাইনকে (রা) পিঠে সওয়ার করাতেন। কোনো শিশুকে নবিজি পর বলে ভাবতেন না। তিনি পালকপুত্র যায়েদের ছেলে ওসামাকে নিজহাতে নাক পরিষ্কার করে দিতেন। কেউ শিশুদের প্রহার করলে নবিজি তা সহজে মেনে নিতে পারতেন না।

রসুলুল্লাহ (স) শিশুদের মন উঁচু করার জন্য তাদের বাহবা দিতেন। একবার সাহাবি খালিদ ইবনে সাঈদ (রা) তার শিশুকন্যাকে সঙ্গে করে নবিজির দরবারে এলেন। মেয়েটির পরনে ছিল লাল জামা। নবিজি তাকে খুশি করার জন্য ‘সুন্দর’ ‘সুন্দর’ বলে বাহবা দিতে লাগলেন। আলাপের এক ফাঁকে মেয়েটি তার শিশুসুলভ আচরণবশত নবিজির মোহরে নবুওয়াতে হাত রেখে খেলতে আরম্ভ করল। এটা দেখে খালিদ তার কন্যাকে ধমকাতে লাগলেন।

নবিজি খালিদকে (রা) বললেন—আহা! ওকে খেলতে দাও, ও তো ওর কাজ করবেই। একদিন নবিজি তার আদরের দুই দৌহিত্র হাসান-হুসাইনকে (রা) নিয়ে খেলা করছিলেন। এমনি সময় সাহাবি আফসা (রা) এসে দেখলেন নবিজি তাদের গালে চুমু খাচ্ছেন। তখন তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ—আপনি আপনার নাতিদের নিয়ে এমন করছেন! অথচ আমাদের দশটি সন্তান রয়েছে, কিন্তু তাদের কাউকে আমি কোনো দিন একটি চুমুও দেইনি! এ কথা শুনে নবিজি বললেন—আল্লাহ কি তোমার অন্তর থেকে মমতা উঠিয়ে নিয়েছেন? তাদের আদর স্নেহ দেওয়া তো অপরাধ নয়!

শিশুদের জন্য নবি (স) খুবই স্বাভাবিক ছিলেন। তার কোমল হাতের ছোঁয়ায় প্রতিটি শিশুর হূদয় শীতল হয়ে যেত। নবিজির সঙ্গে যে কোনো শিশু সহজে মিশতে পারত। তিনি শিশুদের কখনো ভুলে থাকতে পারতেন না। কোনো সফর থেকে ফিরে শিশুদের নিজের বাহনের সামনে-পেছনে আরোহণ করাতেন।

হযরত যাবের ইব্ন সামুরা (রা) বলেন, একবার জোহরের নামাজ শেষে নবিজি ঘরে ফিরছিলেন, এমন সময় একদল শিশু তার কাছে ছুটে এলে তিনি সবাইকে তাদের গণ্ডদ্বয় ধরে আদর করলেন। স্নেহভরে আমার গণ্ডদ্বয়ও স্পর্শ করলেন। তার হাত এত সুশীতল ও সুগন্ধময় ছিল, যেন তা এখনই কোনো আতরের কৌটা থেকে বের করে আনা হয়েছে।

রসুলুল্লাহ (স) শিশুদের এতই ভালোবাসতেন যে, তাদের ছাড়া তিনি মৌসুমের নতুন ফল খেতেন না। আবু হুরায়রা (রা) বলেন—‘কেউ নবিজির কাছে উপঢৌকনস্বরূপ মৌসুমের নতুন ফল নিয়ে এলে তিনি বরকতের দোয়া করতেন, এর পর তা উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠ শিশুর হাতে তুলে দিতেন।’

লেখক : হাফেজ মাওলানা কাজী মারুফ বিল্লাহ্
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের ধর্মীয় উপস্থাপক ও আলোচক

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –