ব্রেকিং:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৪ জনের শরীরে।
  • বৃহস্পতিবার   ২২ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৯ ১৪২৮

  • || ০৯ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
দুই হাজার ৬৭৯ নার্সকে ১১ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার বাইডেনের জলবায়ু সম্মেলন, চার দাবি তুলবেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নারীদের গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১ বিরামপুর সীমান্ত, ভারতে পাচারকালে ২৬টি মোবাইল উদ্ধার ধান কাটতে ঠাকুরগাঁও থেকে গাজীপুরে ৪০ শ্রমিক করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নবম দিনের মতো চলছে সর্বাত্মক লকডাউন।

সাকিবকে বাঁচাতে মায়ের আকুতি

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২১  

বেঁচে থাকার অবলম্বন একমাত্র সন্তান সাকিব আল হাসান সিফাতকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন স্বামী পরিত্যক্তা দিনমজুর সবুজা বেগম। 

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউপির কাছারি বাজার এলাকার দিনমজুর শাহজাহান আলীর স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সবুজা বেগম। তার একমাত্র সন্তান সরকারি আদিতমারী জিএস মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৮ম শ্রেণির মেধাবীছাত্র সাকিব মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

স্থানীয়রা জানান, সবুজা বেগমের বিয়ের তিন বছর পরেই তাকে তালাক দেন স্বামী জামাল মিয়া। তালাকের পর একমাত্র সন্তান ৬ মাসের শিশু সাকিবকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। 

একমাত্র সন্তান সাকিবকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার সংগ্রামে প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবন যাত্রা শুরু করেন মা সবুজা। নিজে না খেয়েও ছেলেকে ভর্তি করেন স্কুলে। মেধাবী সাকিব কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে সরকারি আদিতমারী জিএস মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৮ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। মেধাবী হওয়ায় সহপাঠী, বন্ধু বান্ধব আর শিক্ষকদের প্রিয় হয়ে উঠে সাকিব। ছেলের কৃতিত্ব দেখে তাকে বড় কর্মকর্তা বানানোর স্বপ্ন বুনেন দিনমজুর মা সবুজা বেগম।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে ছেলে সাকিবকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান সবুজা বেগম। তারা তাকে চিকিৎসা না দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে যেতে পরামর্শ দেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য মুরগি বিক্রি করে ছেলেকে নিয়ে যান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের(রমেক) মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবুল কালাম আজাদ টুটুলের কাছে। 

চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে রেফার করেন রমেকের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. একেএম কামরুজ্জামানের কাছে। সেখানেও পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে সাকিবের ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক। সাকিবকে বাঁচাতে দ্রুত এ পজেটিভ গ্রুপের তিন ব্যাগ রক্ত ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।  

ছেলে সাকিবের শরীরের মরণব্যাধি ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে শুনে নির্বাক হয়ে পড়েন দিনমজুর মা সবুজা বেগম। অনেক কষ্টে রক্ত যোগাড় করলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়া হয়নি সাকিবকে। বাড়িতেই চলছে চিকিৎসা। ছেলেকে বাঁচাতে বাবার একমাত্র সম্পত্তি ৮ শতাংশ জমি বন্দক রেখে ৪০ হাজার টাকায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করান সবুজা বেগম। এখন প্রতি সপ্তাহে দেড় হাজার টাকার ওষুধ প্রয়োজন। টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে সাকিব।

ছেলের বাঁচার আর্তনাদ মায়ের চোখের ঘুম ও নাওয়া খাওয়া বন্ধ হয়ে পড়েছে। চোখের সামনে ছেলে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করলেও দিনমজুর মা সবুজা বেগম নিরুপায় হয়ে অর্থ যোগাতে ছুটছেন বিত্তবানদের দুয়ারে।

মেধাবি ছাত্র সাকিব আল হাসানের মরণব্যাধির খবরে তার সহপাঠী বন্ধু বান্ধব ও শিক্ষকরাও নির্বাক হয়ে পড়েছেন। সাকিবকে বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। যা যথেষ্ট ব্যয় বহুল। এ বিশাল খরচ বহন করা তার দিনমজুর মায়ের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব না। সাকিবকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দিনমজুর মা সবুজা বেগম। একই সঙ্গে সহপাঠী আর প্রিয় ছাত্রকে বাঁচাতে শিক্ষকরাও তহবিল গঠন করে হাট বাজার ও বিত্তবানদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্য নিচ্ছেন। তবুও যোগাড় হয়নি সাকিবকে বাঁচানোর ৮ লাখ টাকা।

সাকিবের মা সবুজা বেগম বলেন, নিজে খেয়ে না খেয়ে ছেলেকে স্কুল পড়াচ্ছি বড় অফিসার বানাবো বলে। আমার সেই স্বপ্ন আজ মরণব্যাধি ক্যান্সারে মরতে বসেছে। স্বামী ছেড়ে চলে গেছে। এখন একমাত্র সম্বল সাকিব ছাড়া এ জীবন থেকে কি লাভ?। সাকিবকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।  

স্কুলশিক্ষক লুৎফর রহমান লুকাস বলেন, সাকিব অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তাকে বাঁচাতে তার সহপাঠী ও বন্ধুরা তহবিল গঠন করে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য নিচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সে বেঁচে গেলে দেশ ও সমাজের জন্য ভাল কিছু নিয়ে আসতে পারবে। তাই মেধাবী সাকিবকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। 

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –