• রোববার   ২৬ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলো পদ্মা সেতুর প্রবেশদ্বার বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ দেশ: জো বাইডেন বন্যার্তদের সাহায্যের কথা বলে ফান্ড ভারি করছে বিএনপি পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে খুলে গেল আয়ের খাতা পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র : জড়িতদের খুঁজতে রুল শুনবেন হাইকোর্ট

কুকুরে কামড়ানো ঋত্বিককে নিয়ে দিশেহারা বাবা-মা

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২২  

পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল সহদেব ও পার্বতীর। বিয়ের পর ভালোই চলছিল তাদের সংসার। সুখের সংসারে সন্তানের হাহাকারে ভুগছিলেন তারা। কারণ বিয়ের কয়েক বছর অতিক্রম হলেও তাদের ঘরে কোনো সন্তান আসেনি। তবুও একজন অপরজনকে মানিয়ে নিয়ে চলছিল তাদের পথচলা।

অবশেষে প্রশান্তির বার্তা এল পরিবারে। আট বছর পর পার্বতীর কোলজুড়ে এল এক ছেলে সন্তান। চেহারা সুন্দর হওয়ায় নাম রাখা হয় ঋত্বিক। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই পরিবারের লোকজন ঋত্বিকের মাঝে চতুরতা খুঁজে পেত। সব মিলে অন্ধকারে এক দীপ্ত আলোর ছোঁয়ায় আলোকিত হয়ে উঠে সহদেব ও পার্বতীর পরিবার। এর মাঝে এক ঝড়ে আবারও আলোহীন হয়ে পড়ে পরিবারটি। 

সাত মাস আগে একদিন উঠানে খেলা অবস্থায় কুকুর কামড় দেয় পাঁচ বছর বয়সী ঋত্বিককে। পরে ভ্যাকসিন নেওয়া হয়। এরপর কিছুটা সুস্থ হলেও স্বাভাবিকভাবে হয়ে ওঠেনি ঋত্বিক। দুই সপ্তাহ পর আবারও জ্বরসহ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। তখন কোনো কিছু খেলেই বুকে লেগে যেত তার। ঘুম থেকে উঠলেই বাকা হয়ে যেত আর কান্না করতো সে। 

একমাত্র সন্তান ঋত্বিককে চিকিৎসার জন্য অনেক জায়গায় নিয়ে গেছেন মা-বাবা। সন্তানকে সুস্থ করার জন্য দিনাজপুর থেকে রংপুর, সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়া হলেও আজও সুস্থ হয়ে ওঠেনি তাদের প্রিয় সন্তান। 

চিকিৎসকরা বলতে পারছেন না কোন রোগে আক্রান্ত ঋত্বিক? দিন দিন শরীর শুকিয়ে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে ঋত্বিকের। 

সন্তানকে সুস্থ করতে এমন কোনো জায়গা নেই যে সেখানে নিয়ে যাননি দিনমজুর বাবা সহদেব। সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। তবুও তিনি স্বপ্ন দেখেন একমাত্র সন্তান আবার সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে ওঠবে। 

সহদেব ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট  ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নিজের ১০ শতক বসতভিটা জমি ছাড়া কিছুই নেই তার। দিনমজুর হিসেবে অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চলে তার। এর মাঝে তার পরিবারে ঘটেছে আরও একটি ঘটনা। বাড়ি থেকে তার কাজে যাওয়ার সাইকেলসহ ছেলের চিকিৎসার জন্য অনুদান তোলা তের হাজার টাকাও চুরি হয়ে গেছে। 

প্রতিনিয়ত সন্তানের আর্তনাদ ব্যাকুল করে তুলছে সহদেব ও তার স্ত্রীকে। তবুও তারা স্বপ্ন দেখছেন ঋত্বিক আবার আগের মতো সুস্থ হবে। কেউ না কেউ তাদের পাশে দাঁড়াবেন। 

স্থানীয় প্রতিবেশী রঘুনাথ বলেন, সহদেব অনেক সাদামাটা মানুষ। স্ত্রী আর ছেলে ঋত্বিককে নিয়ে ভালোই চলছিল তার সংসার। কুকুর কামড় দেওয়ার পর চিকিৎসা করে। পরে আবার নানা রোগ দেখা যায়। ছেলেকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে এখন সে নিঃস্ব। উন্নত চিকিৎসা এখন জরুরি। আমরা এর আগে সহায়তা করে চিকিৎসা করিয়েছি। এখন অনেক টাকা দরকার। সরকারি সহায়তা ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো ঋত্বিক আবার আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠবে। 

স্থানীয় প্রতিবেশী লিলি বেগম বলেন, বাচ্চাটাকে সুস্থ করার জন্য অনেক জায়গায় নিয়ে গেছে তারা। কেউ বলতে পারছেনা কি রোগ হয়েছে ছেলেটার। এখন তার ভালো চিকিৎসা দরকার। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। তারা অনেক গরিব। সবাই এগিয়ে এলে হয়তো ঋত্বিক আবার আগের মতো সুস্থ হয়ে ওঠবে।

ঋত্বিকের মা পার্বতী রাণী বলেন, আমার বাবা-মায়ের পরিবার অনেক গরিব। বিয়েও হয়েছে গরিব ঘরে। বিয়ের আট বছর পরে আমার একটি সন্তান হয়। হাজার অভাবেও ছেলেটাকে নিয়ে অনেক আনন্দে ছিলাম। অনেক সুন্দর করে সংসারটা চলছিল আমার। সাত মাস আগে ছেলেকে কুকুরে কামড়ে ছিল। এই এক ঘটনায় সব তছনছ হয়ে গেছে আমার। এখন টাকার অভাবে আর ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছি না।

তিনি বলেন, অজানা এক রোগে ঋত্বিক এক সারাদিন ঘুমায়। ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি করে আর বাকা হয়ে যায়। খাওয়ার সময় বুকে লেগে যায় আর চিৎকার করে। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন আমাদের খাওয়ারও টাকা নেই। কাজে গেলে খেতে পারি। না গেলে না খেয়ে থাকতে হয়। আপনারা আমার ছেলেটাকে বাঁচান। আপনারা এগিয়ে এলেই আমার বুকের ধন বেঁচে যাবে। 

ঋত্বিকের বাবা সহদেব রায় বলেন, আমি মিল চাতালে ভুট্টা শুকানোর কাজ করি। দিনে যে টাকা আয় হয় তা দিনেই শেষ হয়ে যায়। এর আগে ছেলেটাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। ডাক্তাররা বলতে পারছেন না কি রোগ হয়েছে ঋত্বিকের। টাকার অভাবে এখন আর চিকিৎসা করাতে পারছি না। সবাই যদি এগিয়ে আসে তাহলে হয়তো আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে পারব।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হোসেন আলী বলেন, বাচ্চাটাকে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসা জন্য। আমি নিজেই সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় গেছিলাম। কি রোগ হয়েছে কোনো ডাক্তার বলতে পারছেন না। যা সম্বল ছিল আর আমরা যা সহযোগিতা করেছি সব শেষ। এখন টাকার অভাবে আরও ছেলেটার চিকিৎসা করাতে পারছে না। 

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় সহায়তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে কথা বলা যাবে ঋত্বিকের বাবা (০১৭৭৪-১৫৫৫৯৮ (বিকাশ) সহদেবের সঙ্গে। এছাড়াও কথা বলা যাবে প্রতিবেশী স্থানীয় স্কুল শিক্ষক বিবেকান্দ রায়ের সঙ্গে। মোবাইল : ০১৭১৭-৯৭৬২০৪। 

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –