• সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৫ ১৪২৮

  • || ১১ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
বাংলাদেশিদের জন্য থাইল্যান্ডের ভিসা চালু হচ্ছে সোমবার বিএনপিকে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না- কৃষিমন্ত্রী তুলাই নদীতে গতি ফিরলেও বিএনপির রাজনীতিতে ফেরেনি- প্রতিমন্ত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে বিয়ে ভেঙে গেল তরুণীর আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে হাইস্পিড রেল

শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় তরমুজ চাষে সফল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শাহিন   

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২১  

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল হকের দিকনির্দেশনায় মাচায় তরমুজ আবাদ করে সাফল্যের দেখা পান শাহিন।

সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলার আমগাঁও ইউনিয়নের কামারপুকুর গ্রামে শাহিন আলমের (২২) বাসায় তার সাফল্যের বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। তার বাবার নাম হাবিবুর রহমান। শাহিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত।

শাহিন আলম জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাসায় বেকার বসে ছিলেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল হকের দিকনির্দেশনা নিয়ে চলতি বছরের জুন মাসের দিকে তার চাচাতো ভাইয়ের ২৫ শতাংশ জমি বর্গা নেন। এরপর মাচা তৈরি করে তরমুজের চারা রোপণ করেন। এদিকে অসময়ে তরমুজ চাষে শিক্ষার্থীর সাফল্যের দিকে তাকিয়ে স্থানীয় অনেক চাষিই এই অসময়ে তরমুজ আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় কৃষক জয়নাল বলেন, চোখের সামনে শাহিন তার চাচার জমিতে মাচায় আবাদ করলেন অসময়ের তরমুজ। অল্প দিনে অনেক বড় হয়ে গেল তরমুজগুলো। অসময়ের তরমুজ অনেক ভালো দামে বিক্রি হবে আশা করা যায়। আমারও পর্যাপ্ত জমি আছে। তাই এই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করব বলে ভাবতেছি।

ওমর ফারুক নামের আরেক কৃষক বলন, কৃষক পরিবারের ছেলে শাহিন। তবে নিজে কখনো চাষাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এই প্রথম তরমুজ চাষ করেছেন। তাও আবার মাচান-পদ্ধতিতে এবং সফলও হয়েছেন। তার সফলতা দেখে আমরাও ভাবছি চাষ করব।

শাহিন আলম বলেন, করোনা প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের দেশে সব স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি বাসায় অবসর কাটাই। দীর্ঘদিন আমি কোনো কাজ করিনি। ঘরেও ভালো লাগছিল না।
মাত্র ৩০ দিনে আমার করা দুই জাতের তরমুজের ওজন প্রায় সাড়ে চার কেজির মতো। এতে আমার খরচ হয়েছে ৩৫ হাজারের মতো। আমাদের নিজস্ব জমি না থাকায় আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের জমিতে এই মাচান-পদ্ধতিতে আবাদ শুরু করি।

শাহিন বলেন, শিক্ষক হিসেবে তিনি আমাকে আলোর পথ দেখিয়েছেন। তিনি যদি আমাকে সঠিক দিকনির্দেশনা না দিতেন, তাহলে হয়তো আমি এই সফলতা অর্জন করতে পারতাম না। আমি অন্যদেরও ঘরে বসে না থেকে সৃজনশীল বা উদ্ভাবনী কিছু করতে অনুরোধ করব।

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –