• বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৩ ১৪৩১

  • || ১০ মুহররম ১৪৪৬

সর্বশেষ:
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই আইন হিসেবে গণ্য হবে: জনপ্রশাসনমন্ত্রী। ২৫ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসির সব পরীক্ষা স্থগিত।

উচুন্টি গাছে আছে যাদুকরী ঔষধিগুণ

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৪  

স্যাঁতসেঁতে ভেজা জংলা জায়গায়, আর্দ্র অঞ্চলে ও পরিত্যক্ত জমি যেখানে মানুষের যাতায়াত কম সেসব জায়গাতেই অযত্নে অবহেলায় উচুন্টি গাছ জন্মাতে দেখা যায়।

উচুন্টি, ইংরেজিতে এর নাম goatweed, whiteweed। উচুন্টির বৈজ্ঞানিক নাম: Ageratum conyzoides। এটি Asteraceae পরিবারের একটি একবর্ষজীবী বিরুৎ জাতীয় ঔষধি উদ্ভিদ। গাছটি ৩০ - ৬০ সেমি লম্বা হয়, কাণ্ড খাড়া ও রোমশ, পাতা অর্ধগোলাকার ও কিনার খাঁজকাটা ২ - ৬ সেমি লম্বা। উচন্টির ফুল সাধারণত সাদা, তবে সাদার মধ্যে হালকা গোলাপি আভা লক্ষণীয়।

উচুন্টি গাছ বাংলাদেশসহ অন্যান্য অঞ্চলে সাধারণত আক্রমণকারী আগাছা হিসেবে বিবেচিত একটি উদ্ভিদ। এটি স্যাতস্যাতে স্থানে বেশি জন্মে। একে ফুলকুড়ি, দোচুন্টি, ভুরভুষি নামেও ডাকা হয়। পুষ্প বিন্যাস শিরমঞ্জরী, সমপরিনত, ব্যাস ৩-৬ মিমি, প্রান্তীয় ঘন সমভূমঞ্জরীতে সজ্জিত, ০.৫-৩.০ মিমি লম্বা রোমশ পুস্পদন্ডে অবস্থিত, পত্রাবরণ অনূর্ধ্ব ৬ x ৫ মিমি। পরাগধানী উপাঙ্গ বিশিষ্ট, নিম্নাংশে স্থূলাগ্র সিপসেলা সংকীর্ণ ভাবে আয়তকার। মঞ্জুরিতে থোকা থোকা ফুল হয়। ফল পাঁচ কোণী ও কালো। প্রায় সারাবছরই কমবেশি ফুল থাকে। তবে বর্ষায় বেশি ফুল ফোটে। প্রায়শই এর ফুলে প্রজাপতি বা নানা কীটপতঙ্গ দেখা যায়। এ থেকে বোঝা যায় যে ফুলে মধু আছে।

উচুন্টি নিজেই কীটনাশক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত বীজ থেকেই এর বংশবিস্তার হয়ে থাকে। গাছটির পাতা, মূল ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।  এই গাছ বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়।

উচুন্টি গাছের ঔষধিগুণ

(১) অধিক জ্বরে হলে উচুন্টি গাছের পাতা ভালো করে পিষে গায়ে লাগালে বা পাতার রস প্রতিদিন ২-৩ চামচ করে ৩ বার পান করলে জ্বর কমে যায়।

(২) উচুন্টি গাছের পাতার রস খেলে ডায়রিয়া দ্রুত ভালো হয়।

(৩) উচুন্টি গাছের পাতার নিয়মিত খেলে পেট ফাঁপায় উপকার পাওয়া যায়।

(৪) উচুন্টি গাছের পাতার রস বেটে হালকা গরম করে সকাল বিকেল খেলে গ্যাস্ট্রিক ভালো হয়।

(৫) উচুন্টি গাছের পাতা বেটে কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত ঘায়ে লাগালে ঘা দ্রুত ভালো হয়।

(৬) শূল বেদনা ও চর্মরোগে এ গাছের পাতা দারুণ প্রতিষেধক।

(৭) উচুন্টি গাছের পাতার রস ক্ষতস্থানে লাগালে টিটেনাস হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

(৮) উচুন্টি গাছের কচি পাতা বা সম্পূর্ণ গাছ গুঁড়া করে বা সেদ্ধ করে ব্যথার স্থানে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়।

(৯) উচুন্টি গাছের মূল সিদ্ধ করে এই ক্বাথ খেলে নাক থেকে রক্তঝরা বন্ধ হয়।

(১০) রক্তস্রাবরোধী স্ত্রীরোগে এটি দারুণ কার্যকর।

(১১) মাথাব্যথা বা মাথাঘোরায় কচি পাতা বেটে দিলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়।

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –