• সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৫ ১৪২৮

  • || ১১ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
বাংলাদেশিদের জন্য থাইল্যান্ডের ভিসা চালু হচ্ছে সোমবার বিএনপিকে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না- কৃষিমন্ত্রী তুলাই নদীতে গতি ফিরলেও বিএনপির রাজনীতিতে ফেরেনি- প্রতিমন্ত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে বিয়ে ভেঙে গেল তরুণীর আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে হাইস্পিড রেল

ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বিসিক শিল্প নগরীর কারখানাগুলোতে 

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

লকডাউন শিথিল হওয়ার পর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিসিক শিল্প নগরীর কারখানাগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ফলে দীর্ঘ সময়ে অভাব অনটনে থাকা শ্রমিকরা আয়ের পথে এসে বেশ খুশি। আর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবাইকে করোনা টিকার আওতায় আনা হলে স্বাভাবিকভাবেই কারখানা চালু রাখা সম্ভব।

করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ জারি থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের বিসিক শিল্প নগরীর কলকারখানাগুলো বন্ধ রাখা হয়। এতে বেকার হয়ে পড়েন শত শত শ্রমিক। লকডাউন শিথিল হওয়ায় অভাব অনটনে দিনযাপন করা শ্রমিকরা আবারো কর্মস্থলে যোগ দিয়েছে। ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য।

ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীতে গড়ে উঠা সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান রাজ্জাক গ্রুপের গোল্ডেন ফাইবার ইন্ডাট্রিজ নামের জুট মিল। এছাড়া আটা ময়দা সুজি, সাবান ও প্লাস্ট্রিকের কয়েকটি কারখানা ছাড়া গড়ে উঠেনি তেমন কোন বড় কলকারখানা। তাই স্থানীয় অনেক শ্রমিকের ভরসা জুট মিলে নিয়মিত শ্রম দেয়া।

বর্তমানে বিধিনিষেধ শিথিলতায় এই জুট মিলে তিন ভাগে প্রায় ছয়’শ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। এ থেকে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে পাটের তৈরি ৫ হাজার পিস সুতার রোল ও ৫ হাজার পিস বস্তা। এসব উৎপাদিত সুতা ও বস্তা স্থানীয় চাহিদা বাজারের পুরণ করে পাঠানো হচ্ছে অন্যান্য জেলায়। চালু হওয়ার পর জুট মিলে কাজ ফিরে পেয়ে এখন অনেকটাই খুশি শ্রমিকরা। তবে করোনার টিকা প্রদান অব্যাহত থাকলে কলকারখানা খোলা রাখা সম্ভব বলে জানান কারখানার মালিকরা।

১৯৮৭ সাল থেকে ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীর ১৫ একর জমিতে গড়ে উঠে ছোট-বড় ৫১টি প্রতিষ্ঠান। এর বিপরীতে বর্তমানে জুট মিলেই ছয়’শ আর বাকি প্রতিষ্ঠানেগুলোসহ মোট ১৫৩৫জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছে।

কারখানার শ্রমিক মালেকা বেগম বলেন, এতদিন কারখানা বন্ধ থাকায় আমাদের খুব খারাপ অবস্থায় দিন কাটতেছিল। এখন কারখানা খুলছে, নিয়মিত বেতন পাচ্ছি, ভালোভাবে চলতেছে সংসার।

আরেক শ্রমিক আজাদ আলী বলেন, কারাখানায় আমরা মাক্স পরে নিয়ম মত কাজ করতেছি। তবে আমাদেরকে যদি টিকা দেওয়ার ব্যাবস্থা করে তাহলে আরো ভালো হয়।

ঠাকুরগাঁও গোল্ডেন ফাইবার ইন্ডাট্রিজের জেনারেল ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, বিধিনিষেধ শিথিলের পর প্রতিষ্ঠান খুলে নতুন করে উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে করোনায় লোকসান গুনতে হয়েছে আমাদেরকে। লকডাউনে যেসব কলকারখানা বন্ধ ছিল তাদের নেয়া ঋণের সুদ মওকুফ করা হলে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়বে।

ঠাকুরগাঁও চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাট্রিজ এর সভাপতি ও রাজ্জাক গ্রুপের প্রোপাইটার হাবিবুর ইসলাম বাবলু বলেন, করোনা চলাকালীন সময় আমরা কোন শ্রমিক ছাটাই করি নাই। এছাড়াও অনেক শ্রমিককে আমরা সহযোগীতা করেছি। এখন আমাদের কারখানা চালু হয়েছে। তাই যে সকল ব্যাংক লোন এর ইন্টেরেস্ট রয়েছে সেগুলো মওকুফ করলে আমাদের ক্ষতি কম হবে।

ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক নুরেল হক বলেন, সরকারের পক্ষ হতে কলকারখানাগুলোকে ক্ষতিপুরণ দেওয়া হচ্ছে। বিসিকের সকল কারখানা নিয়ম মত, মাক্স ও জীবানু নাশক স্প্রে করে খোলা হয়েছে।

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –