• মঙ্গলবার   ১৭ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৯

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
আমাদের সজাগ থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহের আহ্বান দিনাজপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত বাংলাদেশ থেকে কৃষি শ্রমিক নিতে জর্ডানের প্রতি আহ্বান মন্ত্রীর ‘আমাদের কৃষকদের উৎপাদিত ধান দিয়েই চালের চাহিদা মিটছে’

রংপুরে হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ, রেড জোনে ৩ জেলা

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২২  

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে রংপুর বিভাগ। দেশের সর্ব উত্তরের এই বিভাগের আট জেলার মধ্যে ভারতীয় সীমান্তবর্তী পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট জেলাকে রেড জোনে (অধিক ঝুঁকিপূর্ণ) দেখছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ইয়েলো জোনে (মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ) রংপুর, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও জেলা রয়েছে। এখন পর্যন্ত কম ঝুঁকিপূর্ণ (গ্রিন জোন) জেলা গাইবান্ধা ও নীলফামারী। তবে এই বিভাগে দিন দিন করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে বাড়ছে উদ্বেগ ও শঙ্কা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা বিষয়ক ড্যাশবোর্ড সূত্র বলছে, ঢাকা ও রাঙামাটির পর বর্তমানে আরও ১০ জেলা করোনা সংক্রমণের রেড জোন বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া হলুদ জোন বা মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে ৩২ জেলা। আর গ্রিন বা সবুজ জোনে রয়েছে ১৬ জেলা। গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এদিকে, রেড জোনে থাকা রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ১১.২৬ শতাংশ, পঞ্চগড়ে ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং লালমনরিহাটে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ ছাড়া ইয়েলো জোন বা মধ্যম ঝুঁকিতে থাকা রংপুর, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও জেলায় শনাক্তের হার ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে আরও ৯৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ২৯ শতাংশে। এই সময়ে কোনো রোগী মারা যায়নি।

এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) বিভাগে শনাক্ত হয় ৭২ জন। ওই দিন শনাক্ত ছিল ১৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তারও আগে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) ৪৯ এবং রোববার (১৬ জানুয়ারি) শনাক্ত হয় ২৫ জন।  

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের আট জেলার ৪৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের ৪৮, রংপুরের ১৮, ঠাকুরগাঁওয়ের ১০, নীলফামারীর ৯, গাইবান্ধার ৯, কুড়িগ্রামের ২, পঞ্চগড়ের ২ এবং লালমনিরহাট জেলার ১ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন।

বর্তমানে বিভাগে করোনা আক্রান্ত ২৫ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সংকটাপন্ন ৭ রোগীকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে। বাকিদের বাসায় রেখে চিকিৎসা চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৪ জন সুস্থ হয়েছে। একই সময়ে ভারত হতে লালমনিরহাটের বুড়িমারী, দিনাজপুরের হিলি ও পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন ২৭ জন।

পরিচালক (স্বাস্থ্য) আরও জানান, রংপুর বিভাগে করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে দিনাজপুরে। এ জেলায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ১৫ হাজার ৫৫ এবং ৩৩২ জন মারা গেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বিভাগীয় জেলা রংপুরে। এ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৮৮- তে।

এ ছাড়া জেলা হিসেবে সবচেয়ে কম ৬৩ জন মারা গেছে গাইবান্ধায়। এ জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৯০৫ জনের। ঠাকুরগাঁওয়ে মৃত্যু ২৫৬ ও শনাক্ত ৭ হাজার ৭৩৩, নীলফামারীতে মৃত্যু ৮৯ ও শনাক্ত ৪ হাজার ৪৮৭, পঞ্চগড়ে মৃত্যু ৮১ ও শনাক্ত ৩ হাজার ৮৪৪, কুড়িগ্রামে মৃত্যু ৬৯ ও শনাক্ত ৪ হাজার ৬৫৯ এবং লালমনিরহাট জেলায় মৃত্যু ৬৯ ও আক্রান্ত ২ হাজার ৭৮৩ জন।

তিনি জানান, ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার ৮৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ হাজার ১৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আট জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৫২ জনের। এখন পর্যন্ত বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ৫৪ হাজার ৩৬৭ জন।

এদিকে রংপুর বিভাগ করোনার সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই কোনো আতঙ্ক। পুরো বিভাগেই নতুন করে দেওয়া সরকার নির্দেশিত বিধিনিষেধের কোনো প্রভাব পড়েনি। এমনকি সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কোনো তৎপরতাও নেই।

বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার কথা থাকলেও হাটবাজার, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত সবখানেই তা উপেক্ষিত। সুরক্ষা নীতি বা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে চলছে সভা-সমাবেশ, উৎসবসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম চলছে দিব্যি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, গণটিকাসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে টিকার আওতায় আনার ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আগের চেয়ে কমে আসছে। তবে বর্তমানে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন এবং করোনার ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।

একই সঙ্গে শীতকালে করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সঙ্গে সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।  

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –