• মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

  • || ২৩ শা'বান ১৪৪৫

সর্বশেষ:
ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ নিশ্চিত করুন: প্রধানমন্ত্রী কোনো অজুহাতেই যৌন নিপীড়ককে ছাড় নয়: শিক্ষামন্ত্রী স্পর্শকাতর মামলার সাজা নিশ্চিত করতে হবে: আইজিপি চলতি মাসেই একাধিক কালবৈশাখীর শঙ্কা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশদ্রোহীরা মানুষকে কষ্ট দেয়: নাছিম

ঠাকুরগাঁও পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন 

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২৩  

আজ ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঠাকুরগাঁও মহকুমায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনতার দুর্বার প্রতিরোধে পরাজিত হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের জনগণ ৩ ডিসেম্বর ভোরে ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে দেন। হানাদারদের পরাজয়ের পর ওই এলাকার সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে মুক্তির উল্লাস। আনন্দে উদ্বেলিত কণ্ঠে জয়বাংলা ধ্বনি আর হাতে প্রিয় স্বদেশের লাল ও সবুজ পতাকা নিয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে সবাই।

২৫ মার্চের পর দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ। শুরু থেকে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে মুক্তাঞ্চল। সেখান থেকে পরিচালিত হয় চূড়ান্ত লড়াই। ১৫ এপ্রিলের পর ঠাকুরগাঁও এলাকায় শুরু হয় হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটপাট আর বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জাটিভাঙ্গা ও রানীশংকৈল উপজেলার খুনিয়াদীঘি পাড়ে মুক্তিকামী লোকজনকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। ১৭ এপ্রিল জগন্নাথপুর, গড়েয়া শুখাপনপুকুরী এলাকার সনাতন সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মুক্তিকামী মানুষ ভারত অভিমুখে যাওয়ার সময় স্থানীয় রাজাকাররা তাদের জড়ো করে মিছিলের কথা বলে পুরুষদের লাইন করে পাথরাজ নদীর তীরে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে।

একইভাবে রানীশংকৈলের খুনিয়াদীঘির পাড়ে গণহত্যা চালানো হয়। হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার নিরীহ মানুষজনকে পাক-বাহিনী ধরে এনে লাইন করে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হত। মানুষের রক্তে এক সময় লাল হয়ে উঠে ওই পুকুরের পানি। পরবর্তীতে এ পুকুর খুনিয়াদীঘি নামে পরিচিত পায়।

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর সম্মুখযুদ্ধ শুরু হয় জুলাই মাসের প্রথম দিকে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলারা হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির ওপর আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে। বেশ কিছু ব্রিজ ও কালভার্ট উড়িয়ে দেয় তারা। দালাল রাজাকারদের বাড়ি ও ঘাঁটিতে হামলা চালায়। নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক অভিযান চালায়।

মুক্তিবাহিনীর যৌথ অভিযানে পঞ্চগড় মুক্তিবাহিনীর দখলে এলে পাক-বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। এরপর ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ আক্রমণ শুরু হয় ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে। মিত্রবাহিনী যাতে ঠাকুরগাঁও দখল করতে না পারে সেজন্য পাকসেনারা ৩০ নভেম্বর ভূল্লী ব্রিজ উড়িয়ে দেয়। তারা সালন্দর এলাকায় সর্বত্র বিশেষ করে ইক্ষু খামারে মাইন পুঁতে রাখে। মিত্রবাহিনী ভূল্লী ব্রিজ সংস্কার করে ট্যাংক পারাপারের ব্যবস্থা করে।

১ ডিসেম্বর ভূল্লী ব্রিজ পার হলেও মিত্রবাহিনী যত্রতত্র মাইন থাকার কারণে ঠাকুরগাঁও শহরে ঢুকতে পারেনি। ওই সময় শত্রুদের মাইনে দুটি ট্যাংক ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর এফ এফ বাহিনীর কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মাইন অপসারণ করে মিত্রবাহিনী ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে অগ্রসর হয়। ২ ডিসেম্বর সারারাত প্রচণ্ড গোলাগুলির পর শত্রুবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে সৈয়দপুরে আশ্রয় নেয়। ৩ ডিসেম্বর ভোর শত্রুমুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও। তখন মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের জনগণ মিছিল নিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয়। বিজয় ছিনিয়ে আনতে ১০ হাজার নারী ও পুরুষকে প্রাণ দিতে হয়। পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন দুই হাজার মা-বোন।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান বলেন, ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সংগ্রামের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওকে মুক্ত করেছিল। দেশ স্বাধীনের ১৩ দিন আগে জেলা শত্রুমুক্ত হয়। এই এলাকার মানুষের দেশপ্রেম, শত্রুকে পরাজিত করার মানসিকতা সেটা প্রশংসনীয়। ৩ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও মসজিদ মন্দিরে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। বিভিন্ন আবাসিক প্রতিষ্ঠান, শিশু পরিবার, জেলখানায় এই দিবস উপলক্ষে ভালো খাবার পরিবেশন করা হয়।

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –