• সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩ ১৪৩১

  • || ০৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত হাবীবের

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৪  

ছোট বেলায় হারিয়েছেন বাবাকে। মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনির আয়ে পড়াশোনা চালিয়েছেন। নিজেও করিয়েছেন টিউশনি, কখনো শ্রমিক আবার কখনো দিনমজুরের কাজ। অভাব-অনটন আর সব বাধা স্বত্বেও স্বপ্ন থেকে পিছপা হননি। এবারে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বলছিলাম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর গ্রামের আহসান হাবীবের কথা। তিনি বাড়ির পাশে জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এবারের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

তার এমন সাফল্যে যখন আশপাশের মানুষদের মাঝে প্রশংসার ফুলঝুরি, তখন দিনরাত পরিশ্রম করেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকার জোগান দিতে পারছেন না তার মা সিদ্দিকা বেগম।

জানা গেছে, আহসান হাবীবের ৫ বছর বয়সেই তার বাবা মারা যান। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে ঠাঁই হয় নানা বাড়িতে। নানার অভাবের সংসারে পাননি তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা। তাদের বসতভিটা ছাড়া নেই কোনো আবাদি জমি। অন্যের জমিতে কাজ করেই দিন চলে তাদের। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন হাবীবের মা সিদ্দিকা বেগম। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেও মায়ের সঙ্গে মাঠে কাজ করেন হাবীব।

আহসান হাবীবের মা সিদ্দিকা বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে নিজে বাবা ও মায়ের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। নিজে পরিশ্রম করে সন্তানদের চাহিদা মেটাতে পারেননি। তবুও সন্তানের এমন অর্জনে খুশি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকার অভাবে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আহসান হাবীব জানান, ছোট বেলা থেকে অভাবের সঙ্গে বড় হয়েছেন তিনি। মাঝেমধ্যে নিজে কাজ করলেও মায়ের পরিশ্রমের ফলে পড়াশোনা চালিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও এখন ভর্তির টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি। তবে ভর্তির সুযোগ পেলে বিসিএস ক্যাডার হয়ে মায়ের স্বপ্ন পূরণের আশা তার।

হাবীবের প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম বলেন, আহসান হাবীব অনেক মেধাবী একজন ছাত্র। বর্তমানে টাকার অভাবে সে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে পারছে না। তার মা তাকে মানুষের বাসায় কাজ করে পড়াশোনা করিয়েছে। এখন যদি সমাজের বৃত্তবান কেউ কিংবা সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলেই তার স্বপ্ন পূরণ হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা চাই না অর্থের অভাবে কারও পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ভর্তির বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –