• মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

  • || ২৩ শা'বান ১৪৪৫

সর্বশেষ:
ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ নিশ্চিত করুন: প্রধানমন্ত্রী কোনো অজুহাতেই যৌন নিপীড়ককে ছাড় নয়: শিক্ষামন্ত্রী স্পর্শকাতর মামলার সাজা নিশ্চিত করতে হবে: আইজিপি চলতি মাসেই একাধিক কালবৈশাখীর শঙ্কা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশদ্রোহীরা মানুষকে কষ্ট দেয়: নাছিম

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ-২০২৩: ট্রফি তুমি কার?

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৩  

 
এক ট্রফির দশ দাবিদার! কে না চায় স্বপ্নের শিরোপাটা ছুঁয়ে দেখতে। কিন্তু চাইলেই তো পাওয়া যাবে না। সেজন্য দিতে হবে কঠিনসব পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে সেই পরীক্ষা। শেষ হবে ১৯ নভেম্বর। তার আগে জল্পনার শেষ নেই। কে জিতবে, কার হাতে উঠবে ট্রফিটা? সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন এই প্রতিবেদক। 

টপ ফেভারিট ভারত
ঘরের মাঠে ভারত সব সময়ই ফেভারিট। তার ওপর এবার তারুণ্যের শক্তি আর অভিজ্ঞতার ঝুলি এক হয়েছে দলটিতে। ব্যাটিংয়ে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার সঙ্গে তরুণ শুভমান গিল রয়েছেন। চলতি বছর ৫টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে শুভমান রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। ভারতের ব্যাটিংয়ে সূর্যকুমার ও হার্দিক পান্ডিয়া নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তারা কয়েক ওভারের ঝড়ে ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ভারতের বোলিংও দুর্দান্ত। এর মধ্যে কুলদীপ যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের স্পিন আক্রমণকে টুর্নামেন্টের সেরার মর্যাদা দেওয়া যায়। ভারতের স্পিনসহায়ক পিচে এই ত্রয়ীর জন্যই হট ফেভারিট ভারত। পেস আক্রমণও খারাপ না। জাসপ্রিত বুমরাহ আগের মতো প্রাণঘাতী না হলেও এখনো বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর বোলার। এশিয়া কাপের ফাইনালে ঝড় তোলা মোহাম্মদ সিরাজও দেখাতে পারেন ঝলক। ব্যাটিং-বোলিংয়ের গভীরতা ও বৈচিত্র্যের জন্যই এবার ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার রোহিতরা।


অস্ট্রেলিয়া এখনো ভয়ংকর
ক্রিকেটের জার্মানি অস্ট্রেলিয়া। তাদের শোকজে ট্রফির অভাব নেই। যদিও গত কয়েক বছর সেই অনুযায়ী সাফল্যের দেখা পাচ্ছে না তারা। তবে এই অস্ট্রেলিয়াও যে ভয়ংকর সেটা কারো দ্বিমত থাকার কথা না। সেজন্য বড় আসরের অলটাইম ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া। রেকর্ড ষষ্ঠ শিরোপার মিশনে নেমেছেন কামিন্স-স্মিথরা। তবে স্পিনের উর্বরভূমি ভারতে দেড় মাসের লম্বা টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছে তারা মাত্র দু’জন স্পিনার নিয়ে। এর মধ্যে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আবার পার্টটাইমার। দলে একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। অফস্পিনার অ্যাস্টন আগারের বদলে ব্যাটার মারনস ল্যাবুশেনকে নেয়ায় স্পিনার কমে গেছে। তবে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউডের সমন্বয়ে গড়া পেস আক্রমণ আসরের অন্যতম সেরা। অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি শক্তি হলো মিচেল মার্শ, মার্কাস স্টয়নিস, ক্যামেরুন গ্রিনের মতো ক’জন দুর্দান্ত পেস অলরাউন্ডার। যারা কিনা প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইন নিমেষেই গুঁড়িয়ে দিতে পারেন। 


ভারসাম্যপূর্ণ দল ইংল্যান্ড
একঝাঁক বিস্ফোরক ব্যাটার, দুর্দান্ত পেস আক্রমণ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ স্পিনারদের নিয়ে চমৎকার একটি স্কোয়াড নিয়ে এসেছে ইংল্যান্ড। সেই সঙ্গে এ দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারের বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। জশ বাটলারের নেতৃত্বে জনি বেয়ারস্টো, ডেভিড মালান, হ্যারি ব্রুক, জো রুটের সঙ্গে ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক বেন স্টোকস রয়েছেন। তাই ব্যাটিংয়ে এগিয়ে থাকবে ইংল্যান্ড। তাদের সঙ্গে দুই স্পিনিং অলরাউন্ডার মঈন আলী ও লিয়াম লিভিংস্টোন যোগ হওয়ায় ব্যাটিং গভীরতা বেড়েছে। তবে বোলিংয়ে এ দু’জনের সঙ্গে দলের সেরা স্পিনার আদিল রশিদের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।


ডার্ক হর্স বাংলাদেশ 
শিরোপায় চোখ দেওয়ার সাহস এখনো হয়নি বাংলাদেশের। তবে বড় আসরে চমক দেখানোর সুখস্মৃতি অনেক। যদিও বিশ্বকাপ দল নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক হয়। তবে উপমহাদেশে খেলা বলেই চমক দেখাতে পারে টাইগাররা। সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের তরুণ দলটি চমক দিতে পারে ফেভারিটদের। আরো একটি বিষয় মনে রাখা উচিত, অনেক বড় দলকে পেছনে ফেলে সুপার লিগে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।


তবু বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাকিস্তান 
তাদের পেস আক্রমণ বিশ্বসেরা। কিন্তু এশিয়া কাপ চলাকালে চোটের হানায় এলোমেলো সেই বিভাগ। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাসিম শাহর অভাব পূরণ হওয়ার নয়। তার পরও শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফরা বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে বোলিং করার চেষ্টা করবেন। কিন্তু স্পিনারদের নিয়ে বেশ চিন্তায় আছে পাকিস্তান। শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজরা এশিয়া কাপ থেকেই ছন্দে নেই। ভারতীয় উইকেটে ভালো করতে হলে স্পিনারদের বড় ভূমিকা রাখতে হবে। এজন্য পেস অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফকে বাদ দিয়ে লেগস্পিনার উসামা মীরকে নেয়া হয়েছে। ব্যাটিংয়েও ধারাবাহিকতার অভাব পাকিস্তানের। ওপেনাররা ছন্দে নেই। বাবর আজম ও রিজওয়ান ছাড়া নির্ভর করার মতো কেউ নেই। অবশ্য পাকিস্তান চিরকালই এমন ‘আনপ্রেডিক্টেবল’। ফখর জামান, ইফতেখার, সালমানরা জ্বলে উঠলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।


উইলিয়ামসনদের শেষের লড়াই 
আর কত? তিনটা বড় আসরের ফাইনাল থেকে শূন্য হাতে বিদায় নেয়া। নিউজিল্যান্ডের দুঃখের গল্পটা অনেক লম্বা। সেই গল্পের নায়ক বা খলনায়কদের অনেকেই এবার শেষ বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম কেন উইলিয়ামসন, টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট। ২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল খেলাটা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে কিউইরা। এর মধ্যে সোনালি প্রজন্মের তিনজন গত দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছেন। তবে শিরোপার দেখা পাননি। এবার সেই অপূর্ণতা ঘোচাতে পারবেন তারা?


আফ্রিকার পেস আক্রমণে যত খুঁত
চোট আরো বিপদে ফেলে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। আনরিখ নরকিয়ার ছিটকে যাওয়ায় প্রোটিয়াদের বোলিং আক্রমণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিডি উপমহাদেশে কতটা ভীতি ছড়াতে পারবেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাবরাইজ শামসি ও কেশব মহারাজের স্পিন আক্রমণ মোটামুটি চলনসই। এবার প্রোটিয়াদের মূল শক্তি ব্যাটিং। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন হেনরিক ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার। তাদের সঙ্গে এইডেন মার্করাম, কুইন্টন ডি কক ও অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা জ্বলে উঠলে যে কোনো দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন তারা।

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –