• মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩ ১৪৩১

  • || ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

নৌকার মনোনয়ন ফরম নিলেন অরুনাংশু দত্ত টিটো

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২৩  

 
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো। শনিবার রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নিজে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।

এছাড়াও একই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল।

মনোনয়ন ফরম কেনার পর অরুনাংশু দত্ত টিটো বলেন, দলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের জন্যও দীর্ঘদিন কাজ করছি। ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণ এখন নতুন মুখ খুঁজছে। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে এই নির্বাচীঁ এলাকায় আমি বিপুল ভোটে জয় পেয়েছি। দল থেকে যদি আমাকে এই আসনের জন্য মনোনীত করা হয় তাহলে আশা করি পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবো।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। তৃণমূলে আমার অবস্থান অনেক ভালো। এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেলে ব্যাপক সাড়া পাবো এবং বিপুল ভোটে জিতবো।

অরুনাংশু দত্ত টিটো বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার মতো তেমন কোনো শিল্প কলকারখানা নেই। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে চেষ্টা করছি। আমাকে এই আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজের পরিধি ব্যাপক হারে বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দলের সঙ্গে থেকেছি। আন্দোল করতে গিয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছি।

টিটো বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আ.লীগের নতুন মুখ খুঁজছেন নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এ পরিবর্তন চায়। তৃণমূলে নেতাকর্মীরা অনেক দিন ধরেই আমাকে চাচ্ছেন। কিন্তু এটা তো আমার হাতে নেই। আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি এসব বিষয় বিবেচনা করেন তাহলে হয়তো তিনি আমার ব্যাপারে ভাববেন। 

প্রসঙ্গত, অরুনাংশু দত্ত টিটো ছিলেন আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি। যার ভরাট কণ্ঠের স্লোগানে বারবার পুনরুজ্জীবিত হয়েছে আওয়ামী লীগ। নানা চড়াই উৎরাই আর নানান ঘাত প্রতিঘাত উপেক্ষা করে সুসংগ‌ঠিত ক‌রে‌ছেন দল‌কে। যখনই দুঃসময় এসেছে তখনই এই সাহসী নেতার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে জয় বাংলা স্লোগান।

ছাত্র জীবনে তিনি বামধারার ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করেছেন। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৫ সাল হতে ২০১২ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ছিলেন। এরপর জেলা যুবলীগের সভাপতি এবং ২০১২ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

২০০১ সালে জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর মিথ্যা মামলা, হয়রানি, নির্যতানের শিকার হয়ে এলাকা ছাড়া হন। বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশন দেওয়াসহ ৮টি মামলা দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে এই সকল মিথ্যা মামলার কারণে ৭ মাস কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে। তিনি ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকার প্রতীকে নির্বাচন করেন। সেই নির্বাচনে ১ লাখ ২৬ হাজার ভোট পেয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা পূর্বক বাস্তবায়ন করে চলেছেন।

অরুনাংশু দত্ত টিটোর পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে মনোয়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রয়াত এমপি খাদেমুল ইসলামের ছেলে দুবাইয়ের মিনিস্টার অ্যান্ড ডেপুটি কনসাল জেনারেল সাহেদুল ইসলাম সাহেদ। তার বাবা টানা এ আসন থেকে তিনবার এমপি হয়েছিলেন। সে সুবাদে এলাকায় বেশ পরিচিতি আছে সাহেদের। এছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ডেপুনি অ্যার্টনি জেনারেল ব্যারিস্টার নূর উস সাদিক। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ব্যারিস্টার নূর উস সাদিকের বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট দুলাল চৌধুরী ঠাকুরগাঁও মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮১ হাজার ৪৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৫৯ জন আর নারী ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮২৮ জন। এ আসনে ভোটকেন্দ্র ১৮৫ আর ভোটকক্ষ ১ হাজার ৭২টি।

– দৈনিক ঠাকুরগাঁও নিউজ ডেস্ক –